আমরা অনেক সময় ঘণ্টার পর ঘণ্টা পড়ি, কিন্তু কয়েকদিন পরেই দেখা যায় সব ভুলে গেছি। এটি শিক্ষার্থীদের জন্য একটি সাধারণ সমস্যা। কিন্তু বিজ্ঞান বলছে, আমাদের মস্তিষ্ক কোনো সুপার-কম্পিউটার নয় যে যা দেখবে তা-ই সেভ করে রাখবে। মস্তিষ্ককে তথ্য মনে রাখতে বাধ্য করার জন্য কিছু বিশেষ কৌশল বা ‘মেমরি হ্যাকস’ ব্যবহার করতে হয়।
আজ আমরা আলোচনা করব পড়া দীর্ঘস্থায়ী করার জন্য বৈজ্ঞানিক ৫টি পদ্ধতি নিয়ে:

১. স্পেসড রিপিটিশন (Spaced Repetition)
বিজ্ঞান বলে, আমরা যা পড়ি তার বড় একটা অংশ কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ভুলে যাই। একে বলা হয় ‘ফরগেটিং কার্ভ’। এটি ঠেকানোর উপায় হলো একটি নির্দিষ্ট বিরতিতে রিভিশন দেওয়া। কোনো কিছু পড়ার পর সেটি ২৪ ঘণ্টা পর একবার, ৭ দিন পর একবার এবং ৩০ দিন পর আরেকবার রিভিশন দাও। এই পদ্ধতিতে তথ্যটি তোমার ‘শর্ট-টার্ম মেমরি’ থেকে ‘লং-টার্ম মেমরি’-তে চলে যায়।
২. সক্রিয়ভাবে স্মরণ করা (Active Recall)
অনেকে বইয়ের পাতা বারবার রিডিং পড়ে মনে রাখার চেষ্টা করে, যা আসলে খুব একটা কার্যকর নয়। এর চেয়ে ‘অ্যাক্টিভ রিকল’ অনেক ভালো পদ্ধতি। একটি প্যারাগ্রাফ পড়ার পর বই বন্ধ করে চোখ বুজে মনে করার চেষ্টা করো তুমি কী পড়লে। নিজেকে নিজে প্রশ্ন করো। যখন মস্তিষ্ক নিজে থেকে তথ্যটি খুঁজে বের করার চেষ্টা করে, তখন স্নায়ুগুলো আরও শক্তিশালী হয় এবং পড়াটি স্থায়ী হয়।
৩. নেমোনিক বা ছন্দ ব্যবহার (Mnemonics)
জটিল তথ্য বা তালিকা মনে রাখার জন্য ছন্দ বা ছোট নাম ব্যবহার করো। যেমন— রংধনুর সাতটি রং মনে রাখার জন্য আমরা ‘বেনীআসহকলা’ ব্যবহার করি। বিজ্ঞানের পর্যায় সারণী বা ইতিহাসের সাল মনে রাখার জন্য তুমি নিজেই মজার মজার ছন্দ বানিয়ে নিতে পারো। আমাদের মস্তিষ্ক কাঠখোট্টা তথ্যের চেয়ে মজার কোনো গল্প বা ছন্দ দ্রুত ক্যাচ করে।
৪. ছবি বা ভিউয়ালাইজেশন (Visualization)
একটি কথা প্রচলিত আছে— “মানুষ যা দেখে তা যা শোনে তার চেয়ে বেশি মনে রাখে।” পড়ার সময় মনে মনে একটি কাল্পনিক ছবি বা সিনেমা তৈরির চেষ্টা করো। যদি বিজ্ঞানের কোষ সম্পর্কে পড়ো, তবে কল্পনা করো তুমি সেই কোষের ভেতরে আছ। তথ্যের সাথে ছবি যুক্ত করলে মস্তিষ্ক সেটি ছবির আকারে সেভ করে নেয়, যা পরে সহজে মনে করা যায়।
৫. ঘুমানোর আগে রিভিশন
গবেষণায় দেখা গেছে, মানুষ ঘুমানোর ঠিক আগে যা পড়ে বা চিন্তা করে, ঘুমের সময় মস্তিষ্ক সেই তথ্যগুলো প্রসেস করে স্থায়ী স্মৃতিতে রূপান্তর করে। তাই সারা দিন যা পড়লে, রাতে ঘুমানোর আগে অন্তত ১৫-২০ মিনিট তা একবার চোখ বুলিয়ে নাও। এটি তোমার স্মৃতিশক্তি বাড়াতে অবিশ্বাস্যভাবে সাহায্য করবে।
আরও পড়ুন: পরীক্ষায় ভালো রেজাল্ট করার ১০টি কার্যকরী ও পরীক্ষিত উপায়
শেষ কথা
স্মৃতিশক্তি কোনো জাদুকরী শক্তি নয় যে এটি সবার এক হবে না। সঠিক পদ্ধতি জানলে যে কেউ তার মেধা ও স্মরণশক্তি বাড়িয়ে নিতে পারে। আজ থেকেই এই কৌশলগুলো তোমার পড়াশোনায় প্রয়োগ করো এবং দেখবে পার্থক্যটা তুমি নিজেই বুঝতে পারছ।
