বর্তমান যুগ ডিজিটাল যুগ। এখনকার পড়াশোনা কেবল খাতা-কলমে সীমাবদ্ধ নেই। আপনি স্কুলে পড়ুন কিংবা কলেজে, ল্যাপটপ বা কম্পিউটারের প্রাথমিক জ্ঞান থাকা এখন বাধ্যতামূলক। আর এই কম্পিউটার শিক্ষার মূল ভিত্তি হলো মাইক্রোসফট অফিস, যার মধ্যে ওয়ার্ড (Word) এবং এক্সেল (Excel) সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। আজকের এই ব্লগে আমরা জানবো কেন প্রতিটি শিক্ষার্থীর এই দুটি বিষয়ে দক্ষতা থাকা প্রয়োজন।
মাইক্রোসফট ওয়ার্ড: অ্যাসাইনমেন্ট ও নোট তৈরির আধুনিক হাতিয়ার
স্কুলে বা কলেজে বিভিন্ন প্রজেক্ট রিপোর্ট বা অ্যাসাইনমেন্ট জমা দিতে হয়। আগে যা হাতে লেখা হতো, এখন তা প্রফেশনালভাবে ওয়ার্ডে টাইপ করে জমা দেওয়ার নিয়ম শুরু হয়েছে।
সুন্দর প্রেজেন্টেশন: ওয়ার্ডে আপনি খুব সহজেই আপনার লেখাগুলোকে সাজাতে পারেন। ফন্ট পরিবর্তন, কালার দেওয়া এবং সুন্দর হেডিং ব্যবহারের মাধ্যমে একটি সাধারণ অ্যাসাইনমেন্টকেও আকর্ষণীয় করে তোলা যায়।
আরও পড়ুন: সাধারণ জ্ঞান (GK) বাড়ানোর ৫টি কার্যকর ও সহজ কৌশল
ভুল সংশোধনের সুযোগ: হাতে লিখলে কাটাকাটি হওয়ার ভয় থাকে। কিন্তু ওয়ার্ডে আপনি যতবার খুশি লেখা পরিবর্তন করতে পারবেন। এর অটোমেটিক স্পেলিং চেকার আপনার ইংরেজি বানানের ভুলগুলোও ধরিয়ে দেবে।
ছবি ও চার্ট যোগ করা: একটি ভালো রিপোর্টে শুধু টেক্সট থাকলে হয় না, তাতে ছবি বা ডায়াগ্রাম দরকার হয়। মাইক্রোসফট ওয়ার্ডে খুব সহজেই ইন্টারনেট থেকে ছবি বা কম্পিউটার থেকে গ্রাফ যুক্ত করা যায়।

আরও পড়ুন: স্পোকেন ইংলিশ: ঘরে বসেই ইংরেজি কথা বলা শেখার ৫টি সহজ উপায়
মাইক্রোসফট এক্সেল: হিসাব ও ডাটা ম্যানেজমেন্টের জাদুকর
অনেকে মনে করেন এক্সেল শুধু অফিসের বড় বড় হিসাবের জন্য। এটি একদম ভুল ধারণা। শিক্ষার্থীদের জন্য এক্সেল হতে পারে তাদের পড়াশোনার সেরা মেন্টর। যেমন-
রুটিন ও শিডিউল তৈরি: আপনি আপনার প্রতিদিনের পড়ার রুটিন বা পরীক্ষার সময়সূচি এক্সেলে খুব সুন্দরভাবে টেবিল আকারে সাজিয়ে নিতে পারেন।
ফলাফল বিশ্লেষণ: নিজের পরীক্ষার মার্কসগুলো এক্সেলে ইনপুট দিয়ে আপনি নিজেই নিজের প্রগ্রেস দেখতে পারেন। গ্রাফ বা চার্টের মাধ্যমে বোঝা সম্ভব কোন বিষয়ে আপনি উন্নতি করছেন আর কোনটিতে পিছিয়ে আছেন।
গাণিতিক সমাধান: বড় বড় যোগ-বিয়োগ, গুণ-ভাগ কিংবা গড় বের করার জন্য ক্যালকুলেটর দরকার নেই। এক্সেলের ছোট ছোট ফর্মুলা ব্যবহার করে চোখের পলকে জটিল হিসাব সমাধান করা যায়।
আরও পড়ুন: ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং বনাম জেনারেল শিক্ষা: কোনটি আপনার জন্য সেরা?
কেন এই দক্ষতাগুলো ক্যারিয়ারে এগিয়ে রাখবে?
আপনি ভবিষ্যতে ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, সাংবাদিক কিংবা উদ্যোক্তা যা-ই হতে চান না কেন, মাইক্রোসফট ওয়ার্ড ও এক্সেলের কাজ আপনার পিছু ছাড়বে না। যেমন-
প্রফেশনালিজম: যখন আপনি কোনো চাকরির ইন্টারভিউ দেবেন, তখন আপনার সিভিতে (CV) যদি এই দক্ষতাগুলো থাকে, তবে আপনি অন্যদের চেয়ে কয়েক ধাপ এগিয়ে থাকবেন।
সময় সাশ্রয়: যে কাজ হাতে করলে ২ ঘণ্টা সময় লাগে, ওয়ার্ড বা এক্সেলের মাধ্যমে তা মাত্র ১৫-২০ মিনিটে শেষ করা সম্ভব। এই বেঁচে যাওয়া সময়টুকু আপনি অন্য সৃজনশীল কাজে লাগাতে পারেন।
অনলাইন ইনকাম বা ফ্রিল্যান্সিং: অনেক শিক্ষার্থী বর্তমানে ডাটা এন্ট্রি বা কন্টেন্ট রাইটিং করে অনলাইনে আয় করছে। এই আয়ের প্রধান হাতিয়ার হলো এই দুটি সফটওয়্যার।
আরও পড়ুন: পরীক্ষায় ভালো রেজাল্ট করার ১০টি কার্যকরী ও পরীক্ষিত উপায়
শিক্ষার্থীদের জন্য শেখার সহজ উপায়
অনেকেই ভয় পায় যে কম্পিউটার শিখতে হয়তো অনেক টাকা খরচ করতে হবে। আসলে বিষয়টি তেমন নয়। যেমন-
স্কুলের ল্যাব ব্যবহার করুন: আমাদের স্কুলের কম্পিউটার ল্যাবটি এই জন্যই তৈরি করা হয়েছে। সপ্তাহে অন্তত দুই দিন ল্যাবে এসে প্র্যাকটিস করার চেষ্টা করুন।
ইউটিউব টিউটোরিয়াল: ইউটিউবে “MS Word Tutorial for Beginners” লিখে সার্চ দিলে হাজার হাজার ভিডিও পাবেন। সেখান থেকে ধাপে ধাপে শিখতে পারেন।
নিজেই প্রজেক্ট করুন: ধরুন আপনি বিজ্ঞানের একটি নোট করছেন, সেটি খাতায় না লিখে কম্পিউটার ওয়ার্ড ফাইলে টাইপ করুন। এভাবে প্র্যাকটিস করতে করতেই আপনি দক্ষ হয়ে উঠবেন।
আরও পড়ুন: রাত জেগে পড়া নাকি ভোরে উঠে পড়া? কোনটি বেশি উপকারী?
শেষ কথা
মাইক্রোসফট ওয়ার্ড ও এক্সেল শেখা মানে কেবল কম্পিউটার চালানো শেখা নয়, এটি নিজেকে স্মার্ট ও যুগের উপযোগী করে গড়ে তোলা। আজ থেকেই শুরু করুন। ছোট একটি টেবিল তৈরি কিংবা একটি অনুচ্ছেদ টাইপ করার মাধ্যমেই আপনার এই যাত্রা শুরু হতে পারে। মনে রাখবেন, আজকের ছোট ছোট দক্ষতাগুলোই ভবিষ্যতের বড় সাফল্যের সিঁড়ি।
