পরীক্ষা এগিয়ে আসলেই আমাদের মাথায় একটা বড় প্রশ্ন ঘোরে— পড়ার সঠিক সময় কোনটি? কেউ বলে “রাত জেগে নিরিবিলিতে পড়া ভালো“, আবার বড়রা পরামর্শ দেন “ভোরে উঠে পড়া সবচেয়ে কার্যকর“। আসলে বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে কোনটি সেরা? আজ আমরা এই দুই সময়ের সুবিধা ও অসুবিধা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব যাতে তুমি তোমার জন্য সঠিক সময়টি বেছে নিতে পারো।
১. ভোরে উঠে পড়ার বৈজ্ঞানিক সুবিধা
আমাদের মস্তিষ্ক অনেকটা ব্যাটারির মতো। সারারাত ঘুমের পর সকালে আমাদের মস্তিষ্ক সবচেয়ে বেশি সতেজ ও চার্জড থাকে।
- বেশি মনোযোগ: ভোরের শান্ত পরিবেশে ডিস্ট্রাকশন বা মনোযোগ সরানোর মতো বিষয় কম থাকে। বিজ্ঞানের মতে, সকালে মস্তিষ্কের ধারণক্ষমতা বা ‘Retention Power’ সবচেয়ে বেশি থাকে।
- প্রাকৃতিক আলো: সকালের সূর্যের আলো আমাদের মেজাজ ভালো রাখে এবং পড়ার এনার্জি জোগায়।
- জটিল বিষয় সমাধান: গণিত বা বিজ্ঞানের মতো কঠিন বিষয়গুলো সকালে পড়লে দ্রুত বোঝা যায়।

আরও পড়ুন: পরীক্ষায় ভালো রেজাল্ট করার ১০টি কার্যকরী ও পরীক্ষিত উপায়
২. রাত জেগে পড়ার সুবিধা
অনেকের কাছে রাত হলো পড়াশোনার জন্য সবচেয়ে আরামদায়ক সময়। যারা ‘নাইট আউল’ (Night Owl) তাদের যুক্তি হলো:
- একান্ত সময়: গভীর রাতে চারপাশ নিস্তব্ধ থাকে। বাড়িতে কারোর ডাক বা ফোনের নোটিফিকেশনের ঝামেলা থাকে না।
- ক্রিয়েটিভিটি: গবেষণায় দেখা গেছে, কিছু মানুষের সৃজনশীল চিন্তা রাতে বেশি কাজ করে। যারা সাহিত্য বা দীর্ঘ প্রবন্ধ লিখতে পছন্দ করে, তাদের জন্য রাত বেশ কার্যকর।
৩. রাত জাগার ক্ষতিকর দিক
রাত জেগে পড়ার একটি বড় সমস্যা হলো শরীরের প্রাকৃতিক নিয়ম বা ‘Biological Clock’ নষ্ট হওয়া।

- স্মৃতিশক্তি কমে যাওয়া: যদি তুমি রাত জেগে পড়ে পর্যাপ্ত না ঘুমাও, তবে মস্তিষ্ক সেই তথ্যগুলো স্থায়ীভাবে জমা রাখতে পারে না।
- শারীরিক ক্লান্তি: দিনের বেলা ঘুম ঘুম ভাব থাকে, যার ফলে ক্লাসে মনোযোগ দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। দীর্ঘ মেয়াদে এটি হজমের সমস্যা বা চোখের ক্ষতির কারণ হতে পারে।
৪. কোনটি তোমার জন্য সেরা?
এটি সম্পূর্ণ নির্ভর করে তোমার নিজের শরীরের ওপর। একে বলা হয় ‘ক্রোনোটাইপ’ (Chronotype)।
- যদি তুমি সকালে উঠে কাজ করতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করো, তবে জোর করে রাত জাগার প্রয়োজন নেই।
- আবার যদি তুমি রাতে বেশি মনোযোগী হও, তবে খেয়াল রাখতে হবে যেন তোমার অন্তত ৭ ঘণ্টা ঘুম নিশ্চিত হয়। তবে মনে রাখবে, পরীক্ষার ঠিক আগে হুট করে রুটিন বদলানো বিপজ্জনক।
আরও পড়ুন: পড়া মনে থাকে না? জেনে নিন পড়া মনে রাখার ৫টি বৈজ্ঞানিক ও কার্যকরী কৌশল
৫. কিছু টিপস
- ভোরে উঠতে চাইলে: রাতে তাড়াতাড়ি ঘুমানোর অভ্যাস করো। ঘুমানোর ১ ঘণ্টা আগে মোবাইল ফোন থেকে দূরে থাকো।
- রাতে পড়তে চাইলে: ঘর অন্ধকার করে শুধু টেবিল ল্যাম্পের আলোতে পড়ো না, পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা করো যেন চোখে চাপ না পড়ে।
উপসংহার
আসলে পড়ার সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো তুমি কতটুকু মনযোগ দিয়ে পড়ছ। তবে বিজ্ঞানের অধিকাংশ গবেষণাই ভোরবেলা পড়ার পক্ষে সায় দেয়। কারণ একটি সতেজ মস্তিষ্ক ক্লান্ত মস্তিষ্কের চেয়ে অনেক দ্রুত তথ্য গ্রহণ করতে পারে। তাই চেষ্টা করো নিজের শরীরের ছন্দ বুঝে একটি সঠিক পড়ার সময় নির্ধারণ করতে।
